নিজস্ব প্রতিবেদক
মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশকে ঘিরে জমে উঠেছে রাজনৈতিক পরিবেশ। সমাবেশস্থলে সকাল থেকেই দলে দলে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এই মহাসমাবেশের কার্যক্রম। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রবীণ শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম খান জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও সমাবেশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মঞ্চ প্রস্তুত, পর্যাপ্ত মাইক স্থাপন করা হয়েছে। আমরা একটি সফল সমাবেশের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও দলের জনপ্রিয় নেতা তারেক রহমান এই সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন—এ কারণে এর গুরুত্ব আমাদের কাছে অনেক বেশি। আমরা আশা করছি, এটি স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ শ্রমিক সমাবেশে পরিণত হবে।’
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন সংগঠনটির সভাপতি আনোয়ার হোসেইন। তিনি জানান, ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল—গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ থেকে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন।
সমাবেশকে ঘিরে নয়াপল্টন এলাকায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায়। বিএনপির কার্যালয়ের সামনে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ, যেখানে বিছানো হয়েছে লাল কার্পেট।
মঞ্চের দুই পাশে শোভা পাচ্ছে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিকৃতি। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় বসানো হয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক মাইক।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ লন্ডনে অবস্থান শেষে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর এই প্রথম সরাসরি শ্রমিক সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন তারেক রহমান। এর আগে তিনি ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিয়েছিলেন।
সমাবেশ ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। অনেকেই লাল ক্যাপ, টি-শার্ট, ব্যানার ও ঢোল নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে তারা সমাবেশস্থলে আসছেন। স্লোগান ও করতালিতে পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে এক প্রাণবন্ত সমাবেশস্থলে।
সকালের ভারী বৃষ্টিতে নয়াপল্টনের সড়কে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও দুপুরের আগেই পানি নেমে যাওয়ায় সমাবেশ আয়োজনের পথে আর কোনো বাধা থাকেনি।